ইউটিউবে সফল হতে চান তাহলে এটা দেখুন

আমরা প্রায়শই বিভিন্ন সফল ইউটিউবারের লাইফস্টাইল, ফ্যান ফলোয়ার , ও মাসিক আয় দেখে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করি যে আমরাও একজন হবো সফল ইউটিউবার ।

তাই অনেকে সেই ইচ্ছাকে পূরণ করার জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে শুরুও করে দেই ইউটিউবিং করা।

তবে এই কাজে কিন্তু সবাই সফল হতে পারে না বেশিরভাইগই হয় ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ ।

আর আমি বেশ কিছুদিন ধরে রিসার্চের মাধ্যমে সেই ব্যর্থতার কারণগুলো খুজে পেয়েছি আর সেই গুলোই আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

তা ছাড়াও আমি নিজেও একজন ইউটিউবার আমার নিজের ও ইউটিউব সম্পর্কে মুটামুটি জ্ঞান রয়েছে।

তো যারা যারা নতুন ইউটিউবার রয়েছেন অথবা ভাবতেছেন যে আপনিও ইউটিউবিং শুরু করবেন তাদের জন্য আমার আজকের এই আটির্কেলটি।

আশা করি আজকের এই আটির্কেলটি পুরোটি পড়ার পর। আপনারা খুব সহজেই বুজতে পারবেন যে কেন একজন ইউটিউবার সফলতা পায়না বা হয়ে পরে ব্যর্থ তারপর সেই বিষয়গুলো খেয়াল করে আপনারা যদি ইউটিউবে কাজ করে যান তাহলে ইনশাল্লাহ আপনারা খুব সহজেই সফল ইউটিউবার হতে পারবেন।

কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন এবং সেখান থেকে আয় করবেন হাজার হাজার টাকা তা দেখ নিন ।

ইউটিউবে সফল হতে হলে যে জিনিস গুলো অবশ্যই লাগবে।

১/ সঠিক টপিক নিয়ে কাজ করা : আমাদের মাঝে এমন অনেকেই রয়েছে যারা ইউটিউবে এসে একটি ভুল টপিক নিয়ে কাজ করা শুরু করে যেটাই প্রধানত প্রধান কারণ হয়ে পরে আপনাদের সফলতা না পাওয়ার পিছনে। আপনারা বেশিরভাগই যে কাজ করে থাকেন সেটা হলো আপনারা প্রথমে ইউটিউবে ঢুকেন তারপর দেখন যে বিষয়গুলো জনপ্রিয় মানে অন্যে যে বিষয়গুলো দিয়ে ইউটিউবে সফলতা পেয়েছে সেই বিষয়টি নিয়ে আপনিও কাজ করা শুরু করে দেন এটা খুবই ভুল একটি সিদ্ধান্ত। কারণ সে সফলতা পেয়েছে তারমানে এই না যে আপনিও এই একই বিষয়ে তারমত সহজেই সফলতা পাবেন আপনাকে অবশ্যই এমন টপিক নিয়ে কাজ করতে হবে যে টপিকটি আপনি ভালো পারেন সেটা আপনার জন্য সুবিধা হবে এবং যে টপিকে ভিডিও বানানোর মত আপনার জ্ঞান রয়েছে। তাহলে আপনার আর ভিডিও বানাতে বিরক্ত লাগবে না। যেটা আপনাকে একদিন সফলতার দূর প্রান্তে নিয়ে যাবে।

২/ কোয়ালিটি ও ওয়াচটাইম : আপনি যে ধরনের ভিডিওই বানান না কেন আপনার ভিডিওতে কোয়ালিটি থাকতেই হবেই । কোয়ালিটি ছাড়া আপনি কোন ভাবেই আপনার ভিডিও গুলো র‌্যাংকিংয়ে আনতে পারবেন না। কারন আপনার ভিডিওতে যখন কোয়ালিটি না থাকবে তখন কিন্তু আপনার পুরো ভিডিওটি কোন মানুষ দেখবে না । এর ফলে আপনার ভিডিওর ওয়াচটাইম কমে যাবে যেটা খুবই ক্ষতিকর আপনার ভিডিও র‌্যাংকিংয়ের জন্য। তাই ভিডিও র‌্যাংক করাতে চাইলে অবশ্যই ভিডিওর ওয়াচটাইম বাড়াতে হবে । এবং ওয়াচটাইম বাড়তে হলে ভিডিওতে কোয়ালিটি আনতে হবে কোয়ালিটি ছাড়া কেউ আপনার ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখবে না।

৩/ নিয়মিত ভিডিও আপলোড : ইউটিউবে সফলতা পেতে হলে একটা জিনিস আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আর সেটা হলো আপনি আপনার চ্যানেলে নিয়মিত আছেন কিনা। বিশেষ করে নতুনদের মাঝে এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায় যার ফলশ্রুতিতে তারা খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। আপনি যখনি একটি নতুন ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন তখন আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত ভিডিও ছাড়তে হবে কারণ আপনি যখন নিয়মিত ভিডিও ছাড়বেন তখন আপনার ইউজাররা খুব সহজেই আপনার চ্যানেলের সাথে কানেক্টেট থাকবে যেটা খুবেই ভালো সাইন ইউটিউবে সফল হওয়ার জন্য। কখনো এমন জানি না হয় যে আজ একটা ভিডিও ছাড়লেন আবার ২-৩সপ্তাহ কোন খরব নেই আবার একদিন ৩-৪টা ভিডিও ছাড়লেন আবার বেশ কয়েকদিন খরব নেই। অবশ্যই এমন হতে হবে যে, হয় আপনি প্রতিদিন একটি ভিডিও ছাড়বেন অথবা ৩দিনে একটি অথবা এক সপ্তাহে একটি ছাড়বেন, ভিডিও ছাড়ার ক্ষেত্রে এই ভাবে নিয়মিত হতে হবে।

৪/ অনপেজ ও অফপেজ এসইও : আপনার ভিডিও র‌্যাংকিংয়ে আনার জন্য ও আপনার চ্যানেল সঠিকভাবে গ্রু করতে অনপেজ ও অফপেজ এসইও এর কোন বিকল্প নেই। আপনার চ্যানেলটি বড় করতে হলে ও আপনার ভিডিওগুলো র‌্যাংকিং এ আনতে হলে অবশ্যই সঠিকভাবে অনপেজ এসইও ও অফপেজ এসইও করতে হবে। অনপেজ এসইও বলতে আমরা যখন ভিডিও আপলোড করি তখন যে কাজ গুলো করতে হয় যেমন :-টাইটেল, ডিসক্রিপশন, ট্যাগ ইত্যাদিদেওয়ার সময় সঠিকভাবে অবটিমাইশেন করা । আর অফপেজ এসইও বলতে ভিডিওর বাহিরে কিছু অবটিমাইজেশন করা। এটা ছাড়াও সম্ভব হলে আপনার ভিডিওতে কিছু ব্যাক লিংক তৈরি করুন যেটা খুবই কার্যকর আপনার ভিডিওটি র‌্যাংক করার ক্ষেত্রে।

৫/ ফটোশপের বেসকি/ ফটোইডিটিং : একটা কথা মনে রাখতে হবে আপনি যদি একজন সফল ইউটিউবার হতে চান তাহলে আপনাকে যে জিনিসটি না জানলেই নয় সেটি হলো ফটোশপের বেসিক বা যে কোন একটি ভালো ফটোইডিটিং সফটওয়্যারের উপর বেসিক জ্ঞান। কারন আপনি যখন নিয়মিত আপনার চ্যানেলের জন্য ভিডিও বানাতে থাকবেন তখন প্রতিটা ভিডিওতেই কোন না কোন একটা সময় আপনার ফটোইডিটিং এর দরকার হবে। এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষটি সেটা হলো আপনার প্রতিটি ভিডিওতে থাম্বনেল দিতে হবে আর সেটা তৈরি করতে হলে ও আপনার ফটোশপ বা অন্য কোন ফটো ইডিটিং সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবে। তাই ইউটিউবে আসার আগে অবশ্যই আপনাকে ফটোশপের বেসিক বা অন্য কোন ফটোইডিটিং সফটওয়্যারের কাজ শিখে নিতে হবে।

৬/ ভিডিও ইডিটিং : অবশ্যই আপনার ভিডিওতে কোয়ালিটি আনতে হলে একটি ভালো ভিডিও ইডিটিং সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবে। অনেকে বিভিন্ন আজে বাজে সফটওয়্যার দিয়ে ভিডিও ইডিটিং করে থাকে যার ফলে তাদের ভিডিওর কোয়ালিটি বারার বদলে কমে যায় । তাই আপনাকে অবশ্যই এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে যে সফটওয়্যার দিয়ে আসলেই ভিডিও কোয়ালিটি ভালো করা যায়। আর আপনি যদি সফল ইউটিউবার হিসেবে নিজেকে দেখতে চান তাহলে আপনার অবশ্যই ভালো একটি ভিডিও ইডিটিং সফটওয়্যারের কাজ জানতে হবে । তাই আমি আপনাদেরকে বলবো আপনারা ইউটিউবে আসার আগে একমাস হাতে সময় নিয়ে ভিডিও ইডিটিংটা ভালোভাবে শিখে নিন।

৭/ ধৈর্য্য ধারণ করা : ইউটিউব হলো এমন একটি প্লাটফ্রম যেখানে কেউ বলতে পারবে না যে কখন কার ভিডিও র‌্যাংক করে ফেলবে কখন কার চ্যানেলটি গ্রু করে ফেলবে। তাই এর একটাই সমাধান হতে পারে আর সেটা হলো ধৈর্য্যধারণ করা। এমন অনেকেই আমি দেখেটি যে মাত্র কয়েকটা ভিডিও দিয়েই বড় ইউটিউবার হয়ে গেছে আবার অনেকেই আছে ১০০-২০০ভিডিও দিয়েও এখোনো চ্যানেলটি গ্রু করাতে পারে নেই। তবে হ্যা এমনও অনেককে দেখেছি যারা যারা নিয়মিত ভিডিও ছাড়তেছিন তারা তেমন ভিউ পাচ্ছিল না এভাবে কয়েকমাস কেটে যাওয়ার পর তাদের ভিডিও গুলো যখন র‌্যাংক করেছে তখন কয়েকদিনের মধ্যেই তারা বেশ বড় ইউটিউবারে পরিণত হয়েছে তাই কখনোই হাল ছাড়া যাবে না আপনি যদি ইউটিউবে সফল হতে চান তাহলে অবশ্যই ধৈর্য্যধারণ করে নিয়মিত ভিডিও ছাড়তে হবে প্রথম দিকে ভিউ আসুক আর না আসুক । তারপর যখন ১০০-২০০ ভিডিও ছাড়া হয়ে যাবে তখন দেখবেন একটি ভিডিও র‌্যাংক করে ফেললেই আপনার সব ভিডিওতে ভালোই ভিউ হওয়া শুরু করে দিবে। তখন আপনার চ্যানেল গ্রু করতে খুব বেশি সময় নিবে না।

এই পুরো আটির্কেলটি ভিডিও আকারে দেখতে চাইলে নিচের ভিডিওটি প্লে করুন।

আমাদের সকল আপডেট সবার আগে ফেসবুকে পেতে এখনি লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

Share This